নদীর দেশে চরের বুকে...
চর কুকরি মুকরি, ভোলা
শীতে বাংলাদেশি ভ্রমণ পিপাসুদের সাধারণত দুই ধরণের বিলাসিতা হয়- সাগরবিলাস ও পাহাড়বিলাস। তবে বাংলাদেশের শীত আরেকটি বিলাসিতা করার জন্য বিশেষ উপযোগী। দ্বীপ বা চর বিলাস। বাংলাদেশের সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলে যত গুলো চর রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি 'চর কুকরী মুকরী'। আজ বলব কুকরী মুকরী ভ্রমণের খুটিনাটি।
কেন যাবেন?চর কুকরী মুকরী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। সুন্দরবনের পর হরিণ দেখার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এই কুকরী মুকরী। রয়েছে ক্যাম্পিং এর সুযোগ। রাতের আকাশ হাজার রকমের তাঁরার পসরা সাজিয়ে বসে। শুধু তাই না, জোয়ার ভাটার লুকোচুরি দেখতে এই চরের জুরি নেই।বন, নদীর মোহনা ও অসীম দিগন্ত- সবগুলোর মিশেল এই চর। এখানে একই সাথে আপনি সবগুলোর স্বাদ পাবেন। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এর মাঝে বয়ে চল খাল পুরো চর জুড়ে ছড়িয়ে আছে। নদির বুকে নৌকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লেই দেখা মিলবে পাড়ে থাকা চিত্রা হরিণের।
কিভাবে যাবেন?ভোলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় সবচেয়ে ভাল উপায় হল নদীপথ। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে বরিশাল হয়েও যেতে পারেন। তবে সদর ঘাট থেকে সরাসরি ভোলা যাওয়ার লঞ্চে চেপে পড়লে উত্তম।সদরঘাট
ভোলা (ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল)আমরা গিয়েছিলাম এম ভি টিপু লঞ্চে। অবশ্যই সন্ধ্যার আগে সদরঘাট থাকার চেষ্টা করবেন। ৬ টার পর লঞ্চ পাওয়া না যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ডেকের ভাড়া ৩০০ করে জনপ্রতি। ডাবল বেড এর কেবিন ২০০০ টাকা। শীতের রাতে একটা কেবিন নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। চাইলে তোশক নিতে পারেন। জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা লাগবে।ঘোষের হাট
কচ্ছপিয়া ঘাটপ্রায় ১৫ কিলো এই রাস্তা যেতে হবে অটো বা সিএনজি তে। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৮০-১০০ টাকা। অথবা চাইলে সিএনজি রিজার্ভ করেও যেতে পারেন।কচ্ছপিয়া ঘাট
চর কুকরি মুকরীকচ্ছপিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে করে চলে যেতে পারেন কুকরি মুকরি। তবে সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করা লাগতে পারে। কারন ট্রলার সবসময় থাকে না। জনপ্রতি ৬০-৭০ টাকা লাগে।স্পিডবোট এভেইলেবল। এবং তা পাওয়াও যায়। জনপ্রতি ১৫০ টাকা লাগলেও যাত্রা আরো থ্রিলিং এবং সময় সাশ্রয়ী।
কোথায় থাকবেন?কুকরী মুকরী গেলে অবশ্যই ক্যাম্পিং করবেন। আমাদের ৩ জনের এক টেন্ট প্রতিরাতের জন্য ৬০০ টাকা আর হ্যামকে ৩০০ টাকা খরচ করতে হয়। নিচে নাজিম নামে ভাই এর নাম্বার দেয়া হল। উনার সাথে যোগাযোগ করে আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাবেন। তাহলে আরো কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।
নাজিম ভাই: 01759520357
কি খাবেন?কুকরি মুকরিতে ক্যাম্পিং সাধারনত নারকেল বাগান বা তার আশে পাশে জায়গায়ই হয়। নারিকেল বাগানের ঠিক সামনেই একটি দোকান আছে। তাদের বলে রাখলেই খাবারের ব্যবস্থা করে রাখবে। রাতের খাবারে হাসের গোস্ত খেতে পারেন। বেশ সুস্বাদু। তবে তা আগেই অর্ডার দিয়ে রাখতে হবে। আস্ত হাস নিতে হবে। দাম পড়বে ১৬০০-১৮০০ টাকা।
.
.
.
💰 Price: BDT 1600–1800